April 12, 2021, 4:16 pm

অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ‘ডিজিটাল হাট’ থেকে গরু কিনলেন সরকারের তিন মন্ত্রী

image_pdfimage_print

প্রতিবেদক: ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ, ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ই-ক্যাব) ও বাংলাদেশ ডেইরি ফার্ম অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে বাস্তবায়িত হয়েছে এই ডিজিটাল হাট।

শনিবার ভার্চুয়াল মাধ্যমে ‘ডিজিটাল হাট’ এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানেই লাখ টাকার বেশি দামে গরু কেনেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলাম। আর বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক কেনেন লাখ টাকার গরু।মন্ত্রী তাজুল ইসলাম এক লাখ টাকা দামের গরু পছন্দের কথা বললে ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ই-ক্যাব) সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওয়াহেদ তমাল ওয়েব পেইজ থেকে গরু দেখানো শুরু করেন।

কালো বা লাল রংয়ের গরু পছন্দ না হওয়ায় তাজুল ইসলাম সাদাকালো একটি দেশি ষাঁড় পছন্দ করেন।এক লাখ ২৮ হাজার ৬০০ টাকার গরুর ভিডিও দেখে পছন্দ করে কেনার পর তাজুল ইসলাম মাংসের ২০ শতাংশ বাসায় দিয়ে বাকি মাংস ও চামড়া দান করে দিতে বলেন।এ সময় ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, “পশুর দামের হাজারে ২৩০ টাকা কোরবানির খরচ। ২৩ শতাংশ যে চার্জ কসাইসহ অন্যান্য খরচ হবে, এখানে সিটি কর্পোরেশন কোনো খরচ নেবে না, হোম ডেলিভারিসহ।

লাল রংয়ের গরু কিনে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, “কোরবানির গরু কেনায় মুরুব্বিকে ক্রস করতে চাই না(স্থানীয় সরকার মন্ত্রী), মুরুব্বির নিচেই থাকতে চাই। প্রধান অতিথিকে ক্রস করতে চাই না, ‘গুরু মারার বিদ্যায়’ আমি নেই। কোরবানির গরুর মাংসের তিন ভাগের একভাগ দান ও চামড়া দান করার ইচ্ছা জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।

‘ফুড ফর নেশন একশপ’ থেকে লাখ টাকায় গরু কেনেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।
সাদাকালো রংয়ের গরু কিনে পলক বলেন, “ঈদে নিজ এলাকা চলনবিলের সিংড়ায় চলে যাব। এজন্য ঢাকায় কোরবানির গরু দান করে দিতে চাই।”
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম গরু কেনার আগ্রহ দেখালেও যে সাইট থেকে তিনি গরু কিনবেন, তা আপডেট না থাকায় আর কেনা হয়নি।

প্রায় দুই হাজার পশু কোরবানি এবং মাংস প্রক্রিয়াজাত করে ঢাকায় হোম ডেলিভারি দিতে প্রস্তুতি নিয়েছে ‘ডিজিটাল হাট’। প্রচলিত হাটে পশু কেনায় হাসিল দিতে হলেও এখানে কোনো হাসিল দিতে হবে না ক্রেতাদের।হাটের উদ্বোধন করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলাম বলেন, “ডিজিটাল বাজারে এবার কোরবানির পশু ক্রয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সরাসরি হাটে না যেয়ে ডিজিটাল মাধ্যমে এ ব্যবস্থাপনায় নতুন যাত্রা যোগ হবে। কষ্ট করে যে হাটে যাই, এটা আর করতে হবে না এটা নির্ভরশীল জায়গা হবে। আস্থার জায়গাটা তৈরি করতে হবে। এক্ষেত্রে মূল্য নির্ধারণে ক্রেতা-বিক্রেতার দর কষাকষির ব্যবস্থা থাকা উচিত।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে এ বছর ঢাকা, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরে কোরবানির পশুর হাট না বসানোর সুপারিশ করেছে কোভিড-১৯ বিষয়ক জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি।এক প্রশ্নে তাজুল ইসলাম বলেন, “এক্ষেত্রে হটস্পট চিহ্নিত করে দিলে সুবিধা হবে। যেসব জায়গায় সংক্রমণের সম্ভবনা রয়েছে তা পরিহার করতে হবে। এছাড়া গ্রামে এক জায়গায় হাট না করে বিভিন্ন জায়গায় পশুর হাট করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, “সবাইকে ঘরে থাকতে হচ্ছে, উপায় নেই। কোরবানি দিতে হবে এই বিবেচনায় এই ব্যবস্থা। আগামী দিনগুলোতে এসব প্ল্যাটফর্মে আরও গুরুত্ব দিতে হবে। আমিও এভাবে কোরবানি দিতে চেষ্টা করব।”
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেন, “যে পরিমাণ পশু দেশে রয়েছে তা যথেষ্ট বরং বেশি পশু রয়েছে। গতবারও ভারত থেকে দেশে পশু আসেনি। এবারও ভারত থেকে কোনো পশু দেশে প্রবেশ করবে না।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী পলক বলেন, “মহামারীকালে অনলাইনে মানুষের কেনাবেচা বাড়ছে। আগামী কয়েক বছরে এ খাতে আরো কয়েক লাখ কর্মসংস্থান তৈরি হবে। কোরবানির হাটে না গিয়ে অনলাইনে পশু কেনায় সরকার সব ধরনের সহযোগিতা করছে।”
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, “একটি গরু কেনার পর প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয় পশুর স্বাস্থ্য নিয়ে একটি সনদ দেবে। মাংস দান করার বিষয়ে সহযোগিতা চাইলেও সে ব্যবস্থা করা হবে। এ হাটে পশু কিনলে কোনো হাসিল লাগবে না। পশু কেনায় নগদ প্ল্যাটফর্মে কম চার্জে মূল্যে পরিশোধ করা যাবে।

ঈদের প্রথম দিন ৪০০, পরের দিন এক হাজার এবং তৃতীয় দিন ৬০০ কোরবানির পশু প্রক্রিয়াজাত করার সক্ষমতা রয়েছে বলে জানান উত্তর মেয়র।
এফবিসিসিআই সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম বলেন, “চামড়ার দাম নিয়ে যেন কোনো সমস্যা না হয় সে ব্যপারে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। স্লটার হাউজগুলোর দিকে নজর দিতে হবে যেন ভালোভাবে কোরবানি দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।

ই-ক্যাব সভাপতি শমী কায়সার বলেন, “অনলাইনে পশু কেনায় আস্থার জায়গা তৈরি করতে চাই। এ প্ল্যাটফর্মে ৫০টি পেমেন্ট গেইটওয়ে সংযুক্ত রয়েছে।যে প্রক্রিয়ায় পশু কেনা ও কোরবানি:ই-ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াহেদ তমাল জানান, কিছুদিনের মধ্যে এ সাইটে বিক্রির জন্য পাঁচ হাজার গরুর তথ্য আপলোড হয়ে যাবে।

যেহেতু মাত্র দুই হাজার পশু প্রক্রিয়াজাত করার সক্ষমতা রয়েছে তাই আগে আসলে আগে পাবেন ভিত্তিতে এখানে অর্ডার নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে তমাল বলেন, পশু প্রক্রিয়াজাত করতে মূল দামের ২৩ শতাংশ সার্ভিস চার্জ দিতে হবে ক্রেতাদের। এখান থেকেই সব ধরনের খরচ যেমন পশু পরিবহন, প্রক্রিয়াজাত থেকে শুরু করে প্যাকেট করে বাসায় পৌঁছানো খরচ বহন করা হবে।আব্দুল ওয়াহেদ তমাল জানান, ডিজিটাল হাট ওয়েব সাইটে গিয়ে যে কেউ গরু পছন্দ করে অর্ডার দিতে পারবেন। বর্তমানে আটটি ই-কমার্স সাইট এর সাথে সংযুক্ত রয়েছে।

ওয়েবসাইটে পশুর ওজন থেকে শুরু করে সব তথ্য দেওয়া রয়েছে। অনলাইন পেমেন্ট, এমএফএস নগদ বা ক্রেডিট কার্ডে এ মূল্য পরিশোধ করা হবে। মূল্যে পরিশোধ করা হলেও পুরো টাকা গরু বিক্রেতাকে দেওয়া হবে না। পশুর স্বাস্থ্য সনদ নিশ্চিত হওয়ার পর সেই টাকা পরিশোধ করা হবে। এক্ষেত্রে ক্রেতা সুস্থ পশু কেনায় নিশ্চয়তা পাবেন।

ক্রেতা বাসায় পশু নিতে চাইলে বা প্রক্রিয়াজাত মাংস চাইলে সেই ভিত্তিতে অর্ডার দিতে পারবেন। কবে পশু নিতে চান সেই বিষয়টি অনলাইনে পশু কেনার সময় ক্রেতার ফোন নম্বরে যোগাযোগ করে নিশ্চিত করা হবে। এনএমএস।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2017 nktelevision
Design & Developed BY Freelancer Zone