May 12, 2021, 1:59 am

সংবাদ শিরোনাম

নোয়াখালীর নেতা কর্মীদের শেষ ঠিকানা একরামুল করিম চৌধুরী এমপি

image_pdfimage_print

সালাহ উদ্দিন সুমন:নোয়াখালী জেলাবাসীর আস্থাভাজন নেতা একরামুল করিম চৌধুরী এমপি। এক সময়কার আওয়ামীলীগ বিরোধী এলাকা হিসেবে পরিচিত নোয়াখালীতে ক্ষমতাসীনরা অধিক শক্তি অর্জন করছে। দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নির্বাচনী এলাকা এই জেলা।

বিশেষত জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ একরামুল করিম চৌধুরীর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ শক্ত অবস্থানে রয়েছে। একরামুল করিম চৌধুরীর নেতৃত্বে গেল কয়েক বছরের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জেলার আটটি পৌরসভার সব কটিতেই মেয়র পদে বিজয়ী হয়েছে আওয়ামী লীগ। ৯১টি ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে বেশির ভাগই আওয়ামী লীগের দখলে। তার প্রচেষ্টায় সর্বশেষ গেল ১০ ডিসেম্বরের বেগমগঞ্জ উপজেলা পরিষদের উপ-নির্বাচনেও আওয়ামীলীগের প্রার্থী জয়ী হয়।

২০০৪ সালে প্রথমবারের মতো জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন একরামুল করিম চৌধুরী। দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের খোঁজখবর নিতে শুরু করেন। একই সঙ্গে দল পুনর্গঠনের কাজও শুরু করেন। জননেতা আবদুল মালেক উকিলের মৃত্যুর পর যে নোয়াখালী হয়ে উঠেছিল বিএনপির ঘাঁটি, সেখানে দলের অবস্থান মজবুত করার পথে অনেক দূর এগিয়ে যান একরামুল করিম চৌধুরী। ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে মালেক উকিলের হারানো আসনটি দুই যুগ পর উদ্ধার করেন তিনি।

২০০৪ সালে জেলা আওয়ামীলীগের দায়িত্ব গ্রহণের পর বিভিন্ন গ্রাম, দুর্গম চরাঞ্চলে গিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের খোঁজখবর নিতে শুরু করেন। এতে নেতাকর্মীরা উদ্দীপ্ত হন। তাদের মধ্যে সৃষ্টি হয় প্রাণচাঞ্চল্য এবং তিনি দল পূর্নগঠনের কাজ চালিয়ে যান। আব্দুল মালেক উকিলের মৃত্যুর পর নোয়াখালী হয়ে উঠে বিএনপির ঘাঁটি। সেই ঘাঁটিতে একরামুল করিম চৌধুরী হানা দিয়ে দলকে ধীরে ধীরে এগিয়ে নিয়ে যান, নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করেন। ২০০৮ সালে সংসদ নির্বাচনে এই আসনটি পূনরুদ্ধার হয়। সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে একরামুল করিম চৌধুরী তার নিবার্চনী আসনকে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ ও মাদকমুক্ত করেন।

তিনি মোটর বাইক চালিয়ে ছুটে যেতেন দুর্গম চরাঞ্চলের গ্রামের হতদরিদ্রদের খোঁজখবর নিতে। কোথায় কি সমস্যা তিনি নিজে গিয়ে মানুষের সাথে কথা বলে জানতেন এবং সমস্যা সমাধান করতেন। তার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় শুধু চরাঞ্চল সদর, সুবর্ণচর নয় পুরো নোয়াখালী উন্নয়নের জোয়ারে ভাসছে। এত অল্প সময়ে তিনি জনপ্রিয় হয়ে উঠেন।

এছাড়াও দলীয় কর্মকান্ডে তিনি নিজে উপস্থিত থাকেন। ৫ জানুয়ারী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জামায়াত বিএনপির তান্ডবে তিনি সক্রিয় ভূমিকা রেখে প্রতিরোধ করেন সহিংসতা। জীবন বাজি রেখে মাঠে ময়দানে থেকে এই সহিংস কর্মকান্ড প্রতিরোধ করেন। সন্ত্রাস বিরোধী কার্যকলাপ ঠেকাতে পুলিশকে দুটি গাড়ি উপহার দেন। জামায়াত বিএনপি জেলা আওয়ামীলীগ অফিস জ্বালিয়ে দেয়। পরে আবারো তিন কোটি টাকার নিজস্ব অর্থায়নে ৩ তলা বিশিষ্ট ভবণ নির্মাণ করেন।

তিনি ২০১৪ সালে ২য় বারের মত সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তার অসমাপ্ত কাজ গুলো বাস্তবায়ন করতে থাকেন । তিনি রাস্তা ঘাট, পোল কালভার্ট, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, মসজিদ, মন্দিরসহ সকল পর্যায়ে দান অনুদান অব্যহত রেখেছেন। তার যোগ্য নেতৃত্বে নোয়াখালীর ৮টি পৌরসভার মেয়র প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উপহার দেন।

২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর জাতীয় নির্বাচনে তিনি তৃতীয়বারের মতো নোয়াখালী-০৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর অসমাপ্ত কাজগুলো গুছিয়ে নিতে থাকেন । গ্রামে গ্রামে শতভাগ বিদ্যুৎ পৌঁছিয়েছেন তিনি।

মহামারী করোনার মধ্যে একরাম ফাউন্ডেশন খুলে পুরো নোয়াখালীর মানুষের পাশাপাশি সারা বাংলাদেশের মানুষের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। করোনায় মারা যাওয়া ডাক্তার, পুলিশ, সাংবাদিকদের আর্থিক সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়ে পরিবারের পাশে থেকেছেন। কর্মহীন হয়ে পড়া অসহায় মানুষের মাঝে বার বার ত্রাণ বিতরণ করেছেন।

প্রত্যেক উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, স্থানীয় বিত্তশালী ব্যক্তিদেরকে উৎসাহ দিয়েছেন অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো জন্য । তিনি ঘোষণাও দিয়েছিলেন, আমার নোয়াখালীতে কেউ না খেয়ে মরবে না এবং সে জন্য তিনি নিজেই সার্বক্ষণিক মনিটরিং করেছেন । স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য ৫ লাখ মাস্ক বিতরণ করেছেন তিনি। মহামারী করোনার মধ্যেও দলীয় নেতা কর্মীদের পাশে ছিলেন, খোঁজ খবর রেখেছেন। দলীয় কার্যক্রম করেছেন শক্তিশালী। যার প্রমাণ গত ১১ নভেম্বর যুবলীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে হাজার হাজার নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে পাওয়া যায়। তিনি যেমন কর্মী বান্ধব, কর্মীদেরও একমাত্র ভরসা,আশ্রয়স্থল একরামুল করিম চৌধুরী এমপি।

তিনি বলেন, গত ১২টি বছর ধরে নোয়াখালীতে মাদকমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত, চাঁদাবাজমুক্ত, ইভটিজিং মুক্ত করতে অনেকটাই সফল হয়েছি বলে আমি মনে করি। বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এর চেষ্টায় নোয়াখালী খাল ৪৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে পুনঃখনন করা হয়েছে। নোয়াখালীতে ফোর লেনের কাজ এগিয়ে নিচ্ছি দ্রুত গতিতে। সোনাপুর থেকে জোরারগঞ্জ রোডের নির্মাণকাজ চলমান। কাজ শেষ হলে চট্টগ্রামের যাতায়াত অনেক সহজ এবং সময় অনেক কম লাগবে ।

বিমান বন্দরের কাজও চলমান রয়েছে। সোনাপুর থেকে চেয়ারম্যানঘাট পর্যন্ত রেল লাইন সংযোগ স্থাপনের জন্য ইতোমধ্যে টেন্ডার হয়ে গেছে। আমরা চেষ্টা করে যাচিছ নোয়াখালীতে ছোট্ট একটি নৌবন্দর করার জন্য। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নোয়াখালীতে ইকনোমিক জোন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং ইতোমধ্যে কোম্পানীগঞ্জে স্পেশাল ইকনোমিক জোনের কাজ চলছে। সুবর্ণচরে ইকোনমিক জোনের জন্য ভূমি অধিগ্রহণ করতে জেলা প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে । মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আমার নেতা ওবায়দুল কাদের এর সহযোগিতায় নোয়াখালীকে আমরা সারা বাংলাদেশের মধ্যে একটা মডেল জেলা করবো ইনশাল্লাহ।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2017 nktelevision
Design & Developed BY Freelancer Zone