মঙ্গলবার, ০৩ অগাস্ট ২০২১, ০৭:৫৭ পূর্বাহ্ন

কাদের মির্জাকে অব্যাহতির চিঠি স্থগিত

নোয়াখালী প্রতিনিধি: বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর ছোট ভাই নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কারের জন্য সুপারিশ ও দলের সব কার্যক্রম থেকে অব্যাহতির চিঠিটি স্থগিত করেছে জেলা আ.লীগের সভাপতি এ এইচ এম খায়রুল আনম চৌধুরী সেলিম।

শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে জেলা সভাপতি বলেন, ‘আবদুল কাদের মির্জাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কারের সুপারিশে আমার শারীরিক উপস্থিতিতে স্বাক্ষর করার সুযোগ হয়নি। তার বিরুদ্ধে বহিষ্কারের যে সুপারিশ করা হয়েছে তা আমি সভাপতি হিসেবে অনিবার্য কারণে স্থগিত করলাম।’

এর আগে সন্ধ্যায় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ এইচ এম খায়রুল আনম চৌধুরী সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক সাংসদ মোহাম্মদ একরামুল করিম চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে (পত্র) মির্জা কাদেরকে সংগঠন থেকে বহিষ্কারের জন্য সুপারিশ ও দলের সব কার্যক্রম থেকে অব্যাহতির জন্য কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের কাছে সুপারিশ পাঠানো হয়।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, বিগত কয়েক সপ্তাহ থেকে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা দলীয় নেতা-কর্মীদের ওপর সন্ত্রাসী লেলিয়ে দিয়ে হামলা চালান। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটি ও জেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের সম্পর্কে বিভিন্ন সভা-সমাবেশে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক লাইভে সংগঠনবিরোধী মিথ্যা, অশালীন বক্তব্য ও আপত্তিকর উক্তি করেন। নেতা-কর্মীদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে আবদুল কাদের মির্জাকে সংগঠনের সব কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

একই সঙ্গে সংগঠনবিরোধী ও দলীয় গঠনতন্ত্র পরিপন্থি কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে আবদুল কাদের মির্জাকে দলের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে চুড়ান্তভাবে বহিষ্কার করার জন্য বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ও কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের কাছে সুপারিশ পাঠানো হয়।

গত ১৬ জানুয়ারি বসুরহাট পৌরসভা নির্বাচনের আগ থেকে বিভিন্ন ইস্যুতে আলোচনায় আসেন নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা। আর এ আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন বসুরহাট পৌরসভার নবনির্বাচিত মেয়র আবদুল কাদের মির্জা। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর ওবায়দুল কাদেরের এই ছোট ভাই এরই মধ্যে জেলার ডিসি, এসপি, কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি, পরিদর্শকসহ পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তোলেন। একই সঙ্গে নোয়াখালী-৪ আসনের সাংসদ একরামুল করিম চৌধুরী ও ফেনী-২ আসনের সাংসদ নিজাম উদ্দিন হাজারীর বিরুদ্ধে অপরাজনীতি, টেন্ডার-বাণিজ্য, চাকরি-বাণিজ্য ও কমিশন-বাণিজ্যের অভিযোগ তুলে এর বিচারের দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন তিনি। এ সময় তিনি নোয়াখালী ও ফেনীর ওই দুই নেতার সঙ্গে আঁতাত করার অভিযোগ এনে নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি, পরিদর্শকের প্রত্যাহারের দাবিতে আন্দোলন ও হরতালসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

পুরাতন খবর

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
© All rights reserved © 2017 nktelevision
Design & Developed BY Shera Web