May 12, 2021, 1:45 am

সংবাদ শিরোনাম

আমি আমার বাবার পরিচয়ে রাজনীতি করি, চাচার পরিচয়ে নয়: সামছুদ্দিন জেহান

image_pdfimage_print

সালাহ উদ্দিন সুমন,নোয়াখালী: জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী উপলক্ষে নোয়াখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগের উদ্যোগে আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। নোয়াখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল কাশেমের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন নোয়াখালী সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান একেএম শামছুদ্দিন জেহান ।

এসময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে আমরা একটা দেশ পেতাম না, একটা পতাকা পেতাম না, আমি যেখানে দাড়িয়ে কথা বলছি হয়ত কথা বলতে পারতাম না,তার একটা আঙগুলের ইশারায় দেশ স্বাধীন করেছেন নিজের চিন্তা করেন নাই,জীবনের অধিকাংশ সময় জেলে কাটিয়েছেন বাংলা ভাষাকে প্রতিষ্ঠিত করতে। সেই জাতীর জনকের আজ জন্ম শতবার্ষীকি। তিনি বাংলাদেশকে ছেয়ে ছিলেন সোনার বাংলা গড়ার জন্য। আমাদের ৩০ লক্ষ শহীদ ও মা বোনের ইজ্জত সম্ভমের বিনিময়ে একটা স্বাধীন বাংলা উপহার দিয়ে ছিলেন তিনি।

কিন্তু ৭৫ সালে বাংলার মাটিতে কালো ছায়া নেমে আসে বঙ্গবন্ধুসহ পরিবারের অন্যান্যদের হত্যা করে স্বাধীনতার পতাকাকে ধংস করতে ছেয়ে ছিলো হানাদারদের দালালেরা। কিন্তু ভাগ্যের বিধান তার দুকন্যা দেশের বাইরে থাকায় তারা প্রানে বেঁচে ছিলো । না হলে আজকে তাদের হত্যা করলে আমরা পাকিস্তানী দালালদের গোলামী করতে হতো। প্রানে বেঁচে গেলেন শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা। ৭৫ থেকে ৯৬ পর্যন্ত দেশে কি শাসন ব্যবস্থা চলে ছিলো তা আপনারা জানেন। নোয়াখালীর রাজনীতির বিষয়ে তিনি বলেন, অনেকে আমার পিছনে সমালোচনা করে।

আমি তাদের উদ্যেশ্যে বলব আমি আমার বাবার পরিচয়ে রাজনীতি করি চাচার পরিচয়ে নয়। আমার চাচা কি ছিলো আমি সেটা চিন্তা করি না আমার বাবা কি ছিলো সেটা এ এলাকার সবাই জানেন। তিনি ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং জেলা আওয়ামীলীগের সহ- সভাপতি ও মৃত্যুর  আগ পর্যন্ত শহর আওয়ামীলীগের সভাপতি দায়িত্ব পালন করেছিলেন। আমার পিতা মালেক কমিশনার ছিলেন আওয়ামীলীগের দুঃসময়ের কান্ডারী।

যখন বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয় তখন আওয়ামীলীগের দায়িত্ব নেয়ার মতো একটা লোক ছিলো না। তখন একমাত্র মালেক কমিশনার আওয়ামীলীগের হাল ধরে ছিলেন ইতিহাস কথা বলে। আজকে মাইজদীতে অনেকে বলেন আমি কোথা থেকে রাজনীতি করি । আমি এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে মাঠে থেকে রাজনীতি করেছি।

তখন পেট্টোল পাম্পের বাহার, বাবলু, সহ অসংখ্য নেতা কর্মী জেল জুলুমের স্বীকার হয়েছেন। আজকে যারা সমালোচনা করে তারা তখন কোথায় ছিলো। মাইজীতে হাজী ইদ্রিসের বিরুদ্ধে সমালোচনা করেন। তিনিও আমার বাবার মতো বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। নোয়াখালী আওয়ামীলীগের জন্য অনেক অবদান রেখে গেছেন। তখন তাকে দানবীর হাজী ইদ্রিস বলা হতো। তার সুযোগ্য সন্তান একরামুল করিম চৌধুরী ও দুঃসময়ে আওয়ামীলীগের হাল দরে ছিলেন। তার বিরুদ্ধে যতই ষড়যন্ত্র করা হউক না কেনো তাকে বা তার রাজনীতি ধংস করতে কোন অপশক্তিই কাজে আসবে না। আমি কারো বিরুদ্ধে কথা বলিনা আমি বঙ্গবন্ধুর আদর্শে রাজনীতি করি। তাই বলব আসুন সমালোচনার রাজনীতি পরিহার করে বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে বুকে ধারন করে দেশের জন্য কাধে কাধ মিলিয়ে একসাথে কাজ করি।

নোয়াখালী ইউনিয়ন সেচ্ছাসেবকলীগ আহ্বায়ক আলমগীর হোসেন মানিক এর সঞ্চালনা অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট আলতাফ হোসেন, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও নোয়াখালী ইউনিয়নের পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান নাসির, সদর উপজেলা কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক সার্জেন মোঃ তারেক, অর্থ বিষয়ক সম্পাদক মো: জসিম উদ্দিন, নোয়াখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি হাজী আব্দুল মান্নান, শফিকুর রহমান বাচ্চু, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেত মো: হারুন, ইউনিয়ন যুবলীগের আহ্বায়ক আবদুল রহমান, ৩নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোক্তার হোসেন মিলন, ইউনিয়ন যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আবুল কালাম, ৫ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি মোহাম্মদ রাশেদ।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2017 nktelevision
Design & Developed BY Freelancer Zone