শুক্রবার, ৩০ জুলাই ২০২১, ১০:২৭ পূর্বাহ্ন

নোয়াখালীর ২৫০ শয্যার হাসপাতালে সেবিকার চাকুরি নই, অনেকের কাছে যেন পৈত্রিক বাসা বাড়ি

নোয়াখালী প্রতিনিধি : নোয়াখালী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সরকারী নিয়মনীতি ভঙ্গ করে বছরের পর বছর ধরে বদলি ছাড়াই নিজের পৈত্রিক বাসা বাড়ির ন্যায় বহাল তবিয়তে রয়েছেন উল্লেখযোগ্য সেবিকারা।দীর্ঘদিন ধরে এসব সেবিকা একই কর্মস্থলে চাকুরি করার কারণে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনায় ভেঙ্গে পড়ছে এ হাসপাতালের সার্বিক সরকারী চিকিৎসাসেবাও।অভিযোগ রয়েছে, এ হাসপাতালে সেবিকা পদে এক যুগ আগে সরকারী চাকুরিতে যোগদান করার পর অন্য কোথাও আর যেতে হয়নি এমন সেবিকার সংখ্যাও কম নই।

সূত্র জানায়, মাঝে মধ্যে কিছু সেবিকা জেলার অন্য উপজেলা পর্যায়ের কোন হাসপাতালে বদলি হলেও মাত্র কিছুদিন হাজিরা খাতায় সই স্বাক্ষর করে সেখান থেকে আবারো ফিরে আসেন পুরোনো কর্মস্থলে। এ যেন তাদের তদবিরে তকদির ফেরানোর কৌশলও।
জানা যায়, এ হাসপাতালে এসব সেবিকা কোন কাজ না করলেও কর্মক্ষেত্রে তাদের কোন অসুবিধা হয়না। ইণ্টার্নীতে থাকা সেবিকাদের দ্বারাই তারা তাদের দৈনন্দিন কাজ কর্ম সেরে নেন সহজে।

সূত্র জানায়, এসব সেবিকাকে বদলি করে সরকারী স্বাস্থ্যসেবার ধারাবাহিকতা অক্ষুন্ন রাখার লক্ষ্যে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের ততা¡বধায়ক ও সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে বিভিন্ন সময়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবরে চিঠি চালাচালি হলেও একপর্যায়ে তা আর আমলে নেয়নি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ।
জানা যায়, সরকারী স্বাস্থ্য অধিদপ্তরেও এক শ্রেণীর ঘুষখোর কর্মকর্তারা এসব সেবিকা থেকে চুক্তিমতো আর্থিক সুবিধা হাতিয়ে তাদের আর বদলি করেননি।

জানা গেছে, সেবিকাদের দায়িত্ব পালন বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রয়েছে স্পষ্ট নির্দেশনাও। কিন্তু কোনটিই কোন কাজে আসছেনা এ হাসপাতালে।
সেবিকাদের ওয়ার্ড ইনচার্জ পদে দায়িত্ব পালন সম্পর্কে ২০২০ সালে ২৬ জুন স্বাস্থ্য অধিপ্তরের এক নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কোন ওযার্ড ইনচার্জের মেয়াদ দুই বছর পূর্ণ হলে আবশ্যিকভাবে তাকে এ দায়িত্ব থেকে অব্যহতি দিতে হবে।

বলা রয়েছে, কোন ওয়ার্ড ইনচার্জের মেয়াদ দুই বছর পূর্ণ হওয়ার ২ সপ্তাহ আগে তিনি লিখিতভাবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানাবেন। তিনি জানানোর পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সে মোতাবেক ব্যবস্থা না নিলে তিনি আপনাআপনি অব্যবহতিপ্রাপ্ত বলে গণ্য হবেন।
নির্দেশনামতে, এক ওয়ার্ডে দায়িত্ব পরিবর্তন করে অন্য ওয়ার্ডে দেয়া যাবেনা। ওয়ার্ড ইনচর্জের দায়িত্ব প্রদানকালে সিনিয়রটিকে অবশ্যই প্রাধান্য দিতে হবে এবং কোনভাবেই জুনিয়রদের দায়িত্ব দেয়া যাবেনা।

তাছাড়া, কর্মরত কোন নার্স পর্যায়ক্রমে দায়িত্ব পালন না করা পর্যন্ত ইতোপূর্বে দায়িত্ব পালন করা কোন নার্সকে ওয়ার্ড ইনচার্জের দায়িত্ব দেয়া যাবেনা। এছাড়া, কারো বিরুদ্ধে বিভাগীয় বা ফৌজদারী মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাকে দায়িত্ব দেয়া যাবেনা। একই হাসপাতালে দুই মেয়াদের বেশি ওয়ার্ড ইনচার্জের দায়িত্ব দেয়া যাবেনা। কিন্তু, নির্দেশনার প্রায়শর্তই পরিপূর্ণভাবে পালন করা হয়না এ হাসপাতালে।

জেলার সচেতন নাগরিকদের অনেকে এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ত্বাবধায়ক পদের বদলি হলেও সেবিকাদের বদলি করা সহজ হয়ে ওঠেনা এ জেলায়। তারা বলেন, সেবিকারা বিভিন্ন তদবিরবাজির কারণে তারা নিজ তবিয়তেই বহাল থাকেন।

অভিযোগ রয়েছে, এ হাসপাতালের অকে সেবিকা সরকারীভাবে রোগীদের জন্যে বরাদ্ধ থাকা ওষুধ পথ্যও বাইরে বিক্রয় করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। জেলার সদরের ইদ্রিস মিয়া জানান, তাদের কাছে ভর্ত্তি থাকা কোন রোগীর ওষুধ চাইতে গেলেই বলে পরিষ্কার জানিয়ে দেন, বাইরে থেকে কিনে আনেন। এসব করে অনকে সেবিকা এই শহরেও বাড়ি গাড়ি অনেক সহায় সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

এসব নিয়ে দায়িত্বশীল তত্বাবধায়ক সাহারিয়া সাহেলা জাহানের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, কালকে অফিসে আসেন। আমাদের হাতে এক যুগ আগে এখানে যোগদান করে এখানেই সেবিকার চেয়ারে আছেন এমন একটি দীর্ঘতালিকা রয়েছে, এর জন্যে তো আর অফিসে যেতে হয়না, এমন বাক্যের উচ্চরণে তিনি বলেন, ও হ্যাঁ, এটা আমরা দেখিনা। এটা টোটালই দেখে তাদের নার্সিং অধিদপ্তর।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

পুরাতন খবর

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০  
© All rights reserved © 2017 nktelevision
Design & Developed BY Shera Web