সোমবার, ০২ অগাস্ট ২০২১, ০৫:০৫ পূর্বাহ্ন

কঠোর লকডাউনের ঘোষণা শুনেই রাজধানী ছাড়তে শুরু করেছে মানুষ

দেশে ক্রমবর্ধমান করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে আগামী সোমবার (২৮ জুন) থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত সারাদেশে ‘কঠোর লকডাউন’ জারির ঘোষণা দিয়েছে সরকার। এ খবর শুনেই রাজধানী ছাড়তে শুরু করেছে মানুষ। অনেকটা ঈদযাত্রার মতো দলে দলে গ্রামে ছুটছে মানুষ।

রাজধানীর প্রবেশমুখ ও বাহিরের অন্যতম সড়ক গাবতলী এলাকা, ঢাকা-মাওয়া রোড, ঢাকা-চট্টগ্রাম রোডে, উত্তরার আব্দুল্লাপুরে ছিল মানুষের ঢল। দূরপাল্লার বাস না পেয়ে পিকআপ, মোটরসাইকেল বা বিভিন্ন ছোট বাহনে রাজধানী ছেড়ে যাচ্ছেন মানুষ। অনেকে হেঁটেই রওনা হয়েছেন বাড়ির পানে। মানুষের ঘরে ফেরা বন্ধে বিভিন্ন স্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে চেকপোস্ট বসানো হলেও ঠেকানো যাচ্ছে না ঘরমুখো মানুষের স্রোত।

শনিবার (২৬ জুন) রাজধানীর প্রবেশমুখ ও বাহিরের অন্যতম সড়ক গাবতলী এলাকা, ঢাকা-মাওয়া রোড, ঢাকা-চট্টগ্রাম রোডে, উত্তরার আব্দুল্লাপুরে নেমেছে ঘরমুখো মানুষের ঢল। বাস বন্ধ থাকায় বিভিন্ন যানবাহনে কয়েক ধাপে, কয়েক গুণ ভাড়া বেশি দিয়ে গন্তব্যে ছুটছেন মানুষ। মাইক্রোবাস কিংবা ছোট বাহনে চেপে বসা এসব মানুষ মানছেন না স্বাস্থ্যবিধি, সে সুযোগও নেই সেখানে।

চেকপোস্ট থাকার পরেও কিভাবে যাতায়াত করছেন জানান গাবতলী থেকে পাটুরিয়া ঘাট পর্যন্ত চলাচল করা রেন্ট-এ-কারের মালিক সুমন। তিনি বলেন, মানিকগঞ্জে লকডাউন চলছে। পুলিশের চেকপোস্টও আছে। তবে এসব চেকপোস্ট শহরকেন্দ্রিক। ঢাকা থেকে পাটুরিয়া ঘাট পর্যন্ত যেতে বেশ কয়েকটি বিকল্প গ্রামীণ সড়ক রয়েছে। আমরা শহর এড়িয়ে এসব গ্রামীণ সড়ক ধরেই গন্তব্যে যাচ্ছি।

গাবতলী এলাকার একটি ফিলিংস্টেশনে সুমনের প্রাইভেট কারে তিনজন যাত্রীকে বসে থাকতে দেখা গেছে। আরো দুজন যাত্রী খুঁজছিলেন সুমন। গাড়িতে বসে থাকা একজন যাত্রী জানালেন তার নাম আবুল কালাম। মুগদায় থাকেন। গ্রামের বাড়ি কুষ্টিয়ার কুমারখালী। বাবার অসুস্থতার খবর পেয়ে বাড়ি যাচ্ছেন। আবুল কালাম আরো জানান, ৫০০ টাকা ভাড়া দিয়ে পাটুরিয়া ঘাট পর্যন্ত যাচ্ছেন তিনি।

গাবতলী থেকে আমিনবাজারমুখী জনস্রোতের বেশির ভাগের মুখে মাস্ক নেই। মাস্ক ছাড়া চলাচল করা মানুষের ব্যাপারে কোনো তদারকিও চোখে পড়েনি। মিরপুর থেকে গাবতলী পর্যন্ত বহু মানুষের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল তাদের মুখে মাস্ক নেই কেন? আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যরা কিছু বলছেন না? এদের প্রায় সবার কাছ থেকে না সূচক জবাব পাওয়া গেছে।

আশপাশের জেলা থেকে রাজধানীতে মানুষের প্রবেশ যেমন অব্যাহত আছে, একইভাবে রাজধানী ছেড়েও যাচ্ছে মানুষ। দূরপাল্লার বাস বন্ধ থাকলেও মাইক্রোবাসে যাত্রী বহনের টিকিট বিক্রি হচ্ছে প্রকাশ্যে। যাত্রীদেরও হাঁকডাক করতে দেখা গেছে। গাবতলির এক মাইক্রোবাসচালককে দেখা গেল কুমিল্লার যাত্রী ডাকতে। ভাড়া নিচ্ছিল জন প্রতি ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা।

ঢাকা ছাড়া মানুষের ঢল নেমেছে নৌপথেও। ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে বিচ্ছিন্নভাবে লোকজন ছুটছে দক্ষিণবঙ্গের উদ্দেশে। সড়কে যানবাহনের সংকট থাকায় ভেঙে ভেঙে বিভিন্ন ছোট যানবাহন ও মোটরসাইকেলে তারা যাচ্ছে শিমুলিয়া ঘাটের উদ্দেশে। নৌপথেও নৌযান সংকট দেখা গেছে। লৌহজং ও শ্রীনগরের কয়েকটি স্পট থেকে যাত্রীরা ঝুঁকি নিয়েই স্পীডবোটে চেপে পদ্মা নদী পার হচ্ছে।

শিমুলিয়া ঘাট সহকারী ম্যানেজার ফয়সাল আহমেদ বলেন, আমাদের এই ঘাটে এখন ১৪টি ফেরি সচল রয়েছে। লকডাউনের নিয়ম অনুযায়ী ফেরিতে শুধু রোগী বহনকারী গাড়ি এবং জরুরি পণ্য পরিবহণের গাড়ি ছাড়া সবকিছু পারাপারে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। লকডাউনে মানুষের চলাচলের কথা না থাকলেও সকাল থেকেই মানুষ ভির জমাচ্ছে ফেরি পারাপারের জন্য।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

পুরাতন খবর

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০  
© All rights reserved © 2017 nktelevision
Design & Developed BY Shera Web