বৃহস্পতিবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১০:২৯ অপরাহ্ন

কাদের মির্জার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে

বসুরহাট পৌরসভা কার্যালয় ঘেরাও করার হুমকি দিলেন জেলা জাতীয় পার্টি

নোয়াখালী প্রতিনিধি: নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম স্বপনকে বসুরহাট পৌর মেয়র আব্দুল কাদের মির্জার নেতৃত্বে সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে ফের মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছে জেলা জাতীয় পার্টি।

রোববার  দুপুরে জেলা জাতীয় পার্টির উদ্যোগে জেলা শহর মাইজদী টাউন হল মোড়ে ঘন্টাব্যাপী মানবন্ধন, সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে জেলা জাতীয় পার্টি। জেলা জাতীয় পার্টি মধ্যযুগীয় কায়দায় জাপা নেতাকে কাদের মির্জার নির্মম নির্যাতনের প্রতিবাদে তাদের বিভিন্ন কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছে।

এ সময় বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আব্দুল কাদের মির্জার বিরুদ্ধে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে ব্যবস্থা না নিলে পুরো জেলা অচল করার ঘোষণা দেন জেলা জাতীয় পার্টি। এই সময় টাউন হলের মোড়ে প্রধান সড়কে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক বোরহান উদ্দিন আহাম্মেদ মিঠুর সভাপতিত্বে মানবন্ধনে বক্তব্য রাখেন, জেলা জাতীয় পার্টির সহ-সভাপতি অহিদ উদ্দিন মুকুল, নজরুল ইসলাম, মো. নুর নবী, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হামিদ, মোছাদ্দেকুর রহমান, আলী হোসেন, শ্রমিক পার্টির সভাপতি মিলন সিকদার প্রমূখ।

এ সময় সমাবেশে বক্তারা আগামী ১৫ দিনের মধ্যে আব্দুল কাদের মির্জার শাস্তি দাবি করেন। অন্যথায় প্রত্যেকটা উপজেলাকে অচল করে দেওয়া হবে এবং বসুরহাট পৌরসভা কার্যালয় ঘেরাও করা হবে। একই সময়ে তারা “কাদের মির্জার গালে গালে জুতা মার তালে তালে” শ্লোগান দেন। জাপা নেতারা সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ও নোয়াখালী -৪ আসনে এমপি একরামুল করিম চৌধুরীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

নির্যাতিত স্বপন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালী-৫ (কবিরহাট- কোম্পানীগঞ্জ) আসনে জাতীয় পার্টির মনোনীত সংসদ সদস্য প্রদপ্রার্থী ছিল। এ ছাড়াও নোয়াখালী জেলা জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক সম্পাদক ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক। তিনি উপজেলার চরফকিরা ইউনিয়নের ২নম্বর ওয়ার্ডের মোখলেছের রহমান পন্ডিত বাড়ির জিয়াউল হক জিয়ার ছেলে।

উল্লেখ্য, গত বুধবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে জাপা নেতা সাইফুল ইসলাম স্বপনকে বসুরহাট বাজারের কালামিয়া ম্যানশনের সামনে থেকে কাদের মির্জার নেতৃত্বে তাঁর অনুসারীরা তুলে নিয়ে যান। এরপর রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত পৌরসভা ভবনের তৃতীয় তলার একটি কক্ষে তাঁকে আটকে রেখে মধ্য যুগীয় কায়দায় নির্মম নির্যাতন চালানোর অভিযোগ করেন তার ছেলে মইনুল ইসলাম শাওন। শাওন আরও অভিযোগ করেন, বাবার সাথে থাকা টাকা, মোটরসাইকেল, মুঠোফোন ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এমন ভাবে মারধর করা হয়েছে শুধু কোন রকম জানটা রাখছে। কোম্পানীগঞ্জে রাজনীতিতে মির্জার বিরুদ্ধে যারা আছে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়ার জন্য বাবাকে চাপ দেয় মির্জা। তার প্রতিপক্ষরা যে সকল অনিয়ম করে নাই,সে গুলো করছে বলে তাদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার জন্য বলে। একপর্যায়ে রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি আবদুল লতিফ মেম্বারকে ডেকে নিয়ে মুমূর্ষ অবস্থায় তাঁর কাছে বাবা হস্তান্তর করেন।

এরপর পরিবারের সদস্যরা তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে তাকে আনোয়ার খান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দিয়ে নিরাপত্তার অভাবে বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। এখন বাসায় তার চিকিৎসা চলছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

পুরাতন খবর

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  
© All rights reserved © 2017 nktelevision
Design & Developed BY Shera Web