প্রতিবেদক: নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে এক সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বিকালে উপজেলার চর এলাহী ইউনিয়নের এলাহী বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
আহত তাজুল ইসলাম চর এলাহী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান। তাকে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এলাহী বাজারের বিএনপির এক পক্ষের নেতা ইব্রাহিম তোতা, ইসমাইল তোতা ও বাহাদুরের নেতৃত্বে হামলার সূচনা হয়। তারা হামলা চালিয়ে সাবেক চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম, বিএনপি কর্মী মামুন, হেলাল, খোকন, সোহেল, ইসমাঈলসহ কমপক্ষে ১০ জনকে আহত করেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চর এলাহীতে বিএনপির সমর্থকরা আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। ২০২৫ সালের ২৭ আগস্ট আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুর্বৃত্তদের হামলায় চর এলাহী ইউনিয়নের দলের সাবেক সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল মতিন তোতা নিহত হন।
এ নিয়ে তোতার ছেলেরা অস্ত্রধারীদের দিয়ে বাহিনী গঠন করে নিজেদের আধিপত্য টেকাতে হামলা-সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছেন। তোতার হত্যাকারী আখ্যা দিয়ে বিএনপির একটি পক্ষকে এ বাহিনী এলাকা ছাড়া করতে এলাকায় দাঙ্গা-হাঙ্গামা চালিয়ে আসছে।
আহত তাজুল ইসলাম জানান, বিএনপির মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী মো. ফখরুল ইসলামের পক্ষে প্রচারণা করতে গেলে প্রয়াত আবদুল মতিন তোতার ছেলেরা আমার ওপর হামলা চালায়। এ সময় আমার সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোন ও টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নিয়ে গেছে তারা। এ ঘটনায় থানায় মামলা করবো।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তোতা পরিবারের সদস্যরা বিএনপির পল্লী উন্নয়ন বিষয়ক সহ-সম্পাদক বজলুল করিম চৌধুরী আবেদকে সমর্থন দিয়ে বিএনপির রাজনীতি করে আসছেন। সম্প্রতি আবেদ দলের মনোনয়ন বঞ্চিত হলে তারা বিএনপির প্রার্থী মো. ফখরুল ইসলামের সঙ্গে যোগ দেন।
অভিযুক্ত ইসমাঈল তোতা বলেন, বিএনপি নেতা মোস্তাফিজুর রহমান মেম্বার ও সাহাব উদ্দিনরা আমার বাবার হত্যাকারী। তারা ধানের শীষের প্রচারণায় থাকায় বাগবিতণ্ডা হয়েছে। পরে তাদের লোকজন আমাদের কয়েকজনকে মারধর করে আহত করেন।
এ ব্যাপারে কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুল হাকিম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ ও সেনাবাহিনী গিয়ে অভিযান চালিয়েছে। সন্ত্রাসীরা এলাকা ছেড়ে গা-ঢাকা দিয়েছে। আহতদের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়া নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এলাকায় কাউকে সন্ত্রাসী কার্যক্রম করতে দেওয়া হবে না।