প্রতিবেদক: নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি) প্রশাসনের অনিয়ম দুর্নীতি স্বেচ্ছাচারিতা ও দলীয়করণের শ্বেতপত্র প্রকাশ করে নোবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইসমাইল, উপ-উপাচার্য ড. রেজুয়ানুল হক এবং ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ হানিফ মুরাদের পদত্যাগ দাবি করে সাত দিনের আল্টিমেটাম দিয়েছেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদা দলের শিক্ষকবৃন্দ।
বুধবার দুপুরে নোয়াখালী প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নোবিপ্রবির ভিসি ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের বিরুদ্ধে সকল অভিযোগ তুলে ধরে তাদের পদত্যাগের দাবিতে ৭ দিনের আল্টিমেটাম দেয়া হয়।
নোবিপ্রবির ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক, ও সাদা দলের সভাপতি ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, “নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বর্তমানে এক চরম প্রশাসনিক ও নৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষক ও কর্মকর্তা নিয়োগে রাজনৈতিক আধিপত্য ও শতভাগ দলীয় বৈষম্য, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আইনি ও নৈতিকতার লঙ্ঘন, প্রশাসনিক ও আর্থিক দুর্নীতি, প্রাতিষ্ঠানিক স্বেচ্ছাচারিতা ও হয়রানি, ব্যক্তিগত সুবিধা ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ বিগত ১৭ মাস ধরে চলছে। দলীয়করণের এই প্রশাসনিক দুর্নীতি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক মেরুদন্ড ভেঙ্গে দিচ্ছে, যা মহান মুক্তিযুদ্ধ ও ২৪এর গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছে।
এ সময় আরো বক্তব্য রাখেন, ফিমস বিভাগের অধ্যাপক ও সাদা দলের সাধারণ সম্পাদক ড. জাহাঙ্গীর সরকার, ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ও সাদা দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ড. আবদুল কাইয়ুম মাসুদ।
বক্তারা বলেন, নোবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইসমাইল সকল নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যোগ্যতার মাপকাঠিকে পাশ কাটিয়ে দলীয় দৃষ্টিভঙ্গিকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়েছেন। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় নারী বিদ্বেষী আচরণ করেছেন। ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের নিয়োগ প্রক্রিয়া থেকে বাদ দিয়ে সাম্প্রদায়িক আচরণ করেছেন। প্রত্যেকটি নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন তিনি নিজে তৈরি করেছেন যা নিয়োগ প্রক্রিয়াকে পুরোপুরি প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
তিনি এনসিপি নেতা হান্নান মাসউদ, ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েমের সুপারিশে শিক্ষক কর্মচারী নিয়োগ করেছেন। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিবিরের সাবেক সভাপতিকে এখানে নিয়োগ দিয়েছেন। চেক জালিয়াতির মাধ্যমে আর্থিক দুর্নীতি করেছেন। উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় চরম দুর্নীতিগ্রস্ত হয়েছেন তিনি। টেন্ডার এ যারাই কাজগুলো পাচ্ছে তারা সকলেই তাঁর বন্ধুবান্ধব ও খুব ঘনিষ্ঠ মানুষ। এ সকল দুর্নীতির অবসান হওয়া প্রয়োজন। আমরা তার এ সকল দুর্নীতির তদন্ত ও তার পদত্যাগের দাবি জানাচ্ছি। আগামী সাত দিনের মধ্যে যদি তিনি পদত্যাগ না করেন তবে আমরা আরো কঠোর কর্মসূচিতে যাব।
সংবাদ সম্মেলনে এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন, ড. আবিদুর রহমান, জামাল উদ্দিন, আব্দুর বারেক, মিনহাজুল আবেদীন, জনি মিয়া, মোকাররম হোসেন, সাদ্দাম হোসেন, মোজাম্মেল হোসেন প্রমুখ ও নোয়াখালীতে কর্মরত প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।