মালয়েশিয়ার সেলাঙ্গর রাজ্যের ইউএসজে ২৩ এবং ক্লাংয়ের কমপ্লেক্স পাসার বেসার মেরু এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২৫২ জন অভিবাসীকে আটক করেছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ (জেআইএম)। শনিবার ভোরে পরিচালিত সমন্বিত এ অভিযানে ৭১০ জন বিদেশির কাগজপত্র ও বৈধতার বিষয় পরীক্ষা করা হয়।
অভিযানের সময় আটক এড়াতে কয়েক ডজন অবৈধ অভিবাসী পালিয়ে পাশের একটি পরিত্যক্ত খনির এলাকায় (লম্বং) আশ্রয় নেন। কেউ কেউ খাটের নিচে লুকিয়েও রক্ষা পাওয়ার চেষ্টা করেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সেলাঙ্গর ইমিগ্রেশনের উপপরিচালক (নিয়ন্ত্রণ) মোহাম্মদ খুসাইরি কামারুদিন জানান, আটক ২৫২ জনের বয়স ১৮ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে। তাদের মধ্যে ১৬৪ জন বাংলাদেশি, ৫৭ জন মিয়ানমারের, ২৪ জন ইন্দোনেশিয়ার, তিনজন ভারতের, তিনজন নেপালের এবং একজন পাকিস্তানের নাগরিক।
আটক বাংলাদেশিদের সবাই পুরুষ। মিয়ানমারের ৫০ জন পুরুষ ও সাতজন নারী, ইন্দোনেশিয়ার ১৬ জন পুরুষ ও আটজন নারী, ভারতের তিনজন পুরুষ, নেপালের তিনজন পুরুষ এবং পাকিস্তানের একজন পুরুষ রয়েছেন।
কর্তৃপক্ষ জানায়, শনিবার ভোর ১টা ৫৫ মিনিটের দিকে অভিযান শুরু হয়। এতে সেলাঙ্গর ও পুত্রজায়া ইমিগ্রেশন বিভাগের সদস্যদের পাশাপাশি জাতীয় নিবন্ধন বিভাগ (জেপিএন), জাতীয় মাদকবিরোধী সংস্থা (এএডিকে) এবং মালয়েশিয়ান সিভিল ডিফেন্স ফোর্স (এপিএম) সদস্যরা অংশ নেন।
অভিযানে বিদেশিদের মধ্যে বৈধ ভ্রমণ নথি না থাকা, পাসের শর্ত লঙ্ঘন এবং অনুমোদিত সময়ের বেশি মালয়েশিয়ায় অবস্থানের মতো বিভিন্ন অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের ঘটনা শনাক্ত করা হয়।
মোহাম্মদ খুসাইরি কামারুদিন বলেন, অভিবাসন আইন লঙ্ঘনকারীদের শনাক্ত, আটক, আদালতে সোপর্দ এবং দেশ থেকে বহিষ্কারের লক্ষ্যে আইন প্রয়োগকারী অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তিনি নিয়োগকর্তা ও সাধারণ মানুষকে অবৈধ অভিবাসীদের আশ্রয় বা সুরক্ষা না দেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে অবৈধ অভিবাসীদের বিষয়ে কোনো তথ্য থাকলে তা ইমিগ্রেশন বিভাগকে জানানোর জন্য জনসাধারণের প্রতি অনুরোধ করেন।
আটকদের বিরুদ্ধে মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন আইন ১৯৫৯/৬৩ এবং ইমিগ্রেশন বিধিমালা ১৯৬৩-এর আওতায় তদন্ত চলছে।