
নোয়াখালী প্রতিনিধি: নোয়াখালী সুবর্ণচর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি জাহাঙ্গীর আলমকে চরজব্বর থানা পুলিশ গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে বিএনপি নেতার নির্দেশে স্থানীয় চরবাটা খাসেরহাট বাজারের দোকানপাট বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
চরজব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মিয়া তাকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। ওসি বলেন, জাহাঙ্গীর আলম উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি। তিনি ১৩ তারিখে ঢাকায় লোক সমাগমের বিষয়ে পৃষ্ঠপোষকতা করছিলেন।
সোমবার বিকাল ৫টায় উপজেলার চরবাটা থেকে তাকে আটক করা হয়।
এ ঘটনার প্রতিবাদে বাজার পরিচালনা কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক রাতে মাইকিং করে মঙ্গলবার সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত বাজারের সব দোকানপাট বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়। তবে সকাল এগারোটার দিকে ব্যবসায়ীরা মানববন্ধন করে দোকানপাট খোলার সিদ্ধান্ত নেন।
জানা যায়, আটককৃত আনিসুল হক জাহাঙ্গীর চরবাটা ইউনিয়নের প্রভাবশালী পরিবারের মরহুম মোজাম্মেল হোসেন (মুজা মাঝির) বড় ছেলে। তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি, খাসের হাট বাজার পরিচালনা কমিটির সহ-সভাপতি ও বাজারের ব্যবসায়ী। বাজারের ৫০-৬০টি দোকান ভিটির মালিক তাদের পরিবার, যে কারণে বাজার ব্যবসায়ীরা দোকান বন্ধ রাখতে একপ্রকার ছিলেন।
ইউনিয়ন প্যানেল চেয়ারম্যান, বাজার পরিচালনা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি (ক্ষমতাবলে) ও বিএনপি নেতা হাজী গোলাম মাওলা বলেন, বাজার কমিটির সাবেক সহ-সভাপতি জাহাঙ্গীর আলমকে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়াই বেআইনিভাবে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তিনি রাজনীতির সাথে যুক্ত আছেন কিনা, তা আমার জানা নেই।
গোলাম মাওলা আরও বলেন, “অতি দ্রুত জাহাঙ্গীর মিয়াকে নিঃশর্ত মুক্তি না দিলে আরও কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।”
বাজার ব্যবসায়ী ও ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি আবদুর রহমান খোকন বলেন, “জাহাঙ্গীর মিয়া একজন সজ্জন ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। তাঁর মতো ব্যবসায়ীকে কোনো অভিযোগ ছাড়াই পুলিশ গ্রেপ্তার করার কারণে বাজার কমিটি দোকানপাট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। রাজনীতি একান্তই তার ব্যক্তিগত, তবে আমরা তাকে পুরাতন ব্যবসায়ী হিসেবে জানি।
সুবর্ণচর সুশীল সমাজের প্রতিনিধি সাখাওয়াত উল্যাহ বলেন, “বাজার বন্ধ রেখে সাধারণ ক্রেতাদের হয়রানি করার অধিকার তাদের কে দিল? উনার গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ আমরাও করেছি, কিন্তু বাজার বন্ধ রাখার মতো এমন সিদ্ধান্তের জন্য বাজার পরিচালনা কমিটির পদত্যাগ দাবি করি।”
চরজব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মিয়া বলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি। তাঁর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকায় তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
Leave a Reply