
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২হাজার ডলারের ট্যারিফ রিবেট প্রদানের প্রস্তাব করেছেন, তবে তিনি বলেছেন এটি কেবল তাদেরই দেওয়া হবে যাদের বার্ষিক আয় ১ লাখ ডলারের কম।
সোমবার ওভাল অফিসে ট্রাম্প বলেন, আমরা শুল্ক থেকে কয়েক শ’ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করেছি। আমরা ডিভিডেন্ড দেবৃসম্ভবত আগামী বছরের মাঝামাঝি, হয়তো তার চেয়েও একটু পরে মাঝারি ও মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য হাজার হাজার ডলার।
যদিও ট্যারিফ রিবেট ও যোগ্যতা নিয়ে সরকারিভাবে কিছু জানানো হয়নি, মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ফক্স নিউজকে জানান, প্রস্তাবিত এই প্রণোদনা চেক ওয়ার্কিং ফ্যামিলিদের জন্য এবং তাদের আয় “ধরা যেতে পারে, বছরে ১ লাখ ডলারের কম।
যদি রিবেট পাওয়ার সর্বোচ্চ আয়ের সীমা বছরে ১ লাখ ডলারে নির্ধারিত হয়, তবে উচ্চ-আয় শ্রেণির ব্যক্তিরা যোগ্য হবেন না।
৯ নভেম্বর ট্রাম্প ট্রুথ সোশালে লিখেছিলেন, প্রতি ব্যক্তিকে (উচ্চ আয়কারীরা বাদে!) কমপক্ষে ২০০০ ডলারের একটি ডিভিডেন্ড দেওয়া হবে।
পরদিন আরেক পোস্টে তিনি লিখেন, নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মার্কিন নাগরিকদের প্রদত্ত ২,০০০ ডলারের পেমেন্ট থেকে যে অর্থ বাকি থাকবে, তা আমাদের দেশে বিদেশি দেশগুলো থেকে ঢেলে দেওয়া বিশাল ট্যারিফ আয়ের সঙ্গে মিলিয়ে জাতীয় ঋণ বহুলাংশে পরিশোধে ব্যবহৃত হবে।
আপনি কি ট্রাম্পের ২ হাজার ডলারের প্রণোদনা চেকের জন্য যোগ্য?
মার্কিন জনশুমারি ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী (আইবিআইএসওয়ার্ল্ডের প্রতিবেদনে উদ্ধৃত), ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ৪২% পরিবারের বার্ষিক আয় ১ লাখ ডলারের বেশি ছিল। অর্থাৎ ট্রাম্প প্রশাসনের দেওয়া ইঙ্গিত অনুযায়ী, প্রায় ৪২% পরিবার এই ট্যারিফ রিবেট পাওয়ার যোগ্য হবে না।
ব্যক্তিগতভাবে এই পেমেন্ট দেওয়া হবে কি না, তা স্পষ্ট নয়। তবে যোগ্যতার মানদণ্ড যদি ব্যক্তিকেও অন্তর্ভুক্ত করে, তাহলে ইউগভ প্রোফাইলসের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ১৮% মার্কিন প্রাপ্তবয়স্ক উচ্চ আয়ের শ্রেণিতে পড়েনএবং তারাও অযোগ্য হবেন।
২০২০ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ১ লাখ ডলারের বেশি আয়কারী পরিবারের সংখ্যা ১.৯ শতাংশ পয়েন্ট বেড়েছে এবং এই প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। ফলে এই আয়সীমা অনেক পরিবারকেই প্রণোদনা থেকে বঞ্চিত করবে।
২০২৪ সালে মার্কিন পরিবারভিত্তিক মধ্যম আয় ছিল ১০৮,৬০০ ডলার যা আয়সীমার খুব কাছাকাছি। সব ধরনের পরিবারের মোট মধ্যম আয় ছিল ৮৩,৭৩০ ডলার।
ট্রাম্পের ট্যারিফ রিবেট কীভাবে কাজ করবে?
ট্যাক্স ফাউন্ডেশনের কর–বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন ১ লাখ ডলারের কম আয়কারীদেরই যদি এই রিবেট দেওয়া হয়, তাহলে এটি যুক্তরাষ্ট্রের বাজেট ঘাটতি আরও বাড়াবে।
তাদের হিসাবে, শুধু করদাতা ও তাদের সঙ্গীকে এই চেক পাঠাতেই খরচ হবে ২৭৯.৮ বিলিয়ন ডলার। নির্ভরশীল ব্যক্তি বা নন ফাইলার যুক্ত হলে খরচ আরও বাড়বে।
এ বছর সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নতুন ট্যারিফ থেকে সরকার মোট সংগ্রহ করেছে মাত্র ১১৭ বিলিয়ন ডলার যা রিবেটের সম্ভাব্য মোট খরচের কাছাকাছিও নয়।
তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় সব ডিজাইনেই আমেরিকানদের ২,০০০ ডলারের পেমেন্ট পাঠানো হলে ফেডারেল ঘাটতি বাড়বে, কমবে না। ট্যারিফের চাপ কমানোর সবচেয়ে ভালো উপায় হলো ট্যারিফ বাতিল করা।
Leave a Reply