
নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার মীর আদর্শ গ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনুপ্রবেশ, সাইনবোর্ড পরিবর্তন এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে প্রবেশে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পার্শ্ববর্তী লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার ফরিদ বাহিনীর বিরুদ্ধে। স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও রাজনৈতিক উদ্যোগে বৃহস্পতিবার বিকেলে অভিযুক্তরা বিদ্যালয় এলাকা ছেড়ে চলে যায়।
হাতিয়া উপজেলার হরনী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত মীর আদর্শ গ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। স্কুলটি ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠিত এবং ২০১৪ সালের ১ জানুয়ারি জাতীয়করণ করা হয়। ২০০৮-০৯ অর্থবছরে সিডিএসপি প্রকল্পের আওতায় বিদ্যালয় ভবনটি সাইক্লোন সেন্টার ও আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে নির্মিত হয়। বর্তমানে বিদ্যালয়ে প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ১৮৬ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। শিক্ষক রয়েছেন চারজন।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষার উপপরিচালক বরাবর লেখা নোয়াখালী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্ব) ইশরাত নাসিমা হাবীব স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বলা হয়, গত ১৬ জুন সকাল ৯টার দিকে রামগতি উপজেলার কয়েকজন ব্যক্তি দলবল নিয়ে বিদ্যালয়ে ঢুকে জোরপূর্বক অবস্থান নেয়। এ সময় তারা বিদ্যালয়ের সরকারি সাইনবোর্ড অপসারণ করে ‘পশ্চিম চর দরবেশ আদর্শগ্রাম রেজিস্টার প্রাথমিক বিদ্যালয়’ নামে একটি নতুন সাইনবোর্ড স্থাপন করে। পাশাপাশি শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয় থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগও করা হয়।
চিঠিতে আরও বলা হয়, ওই দিন বিকেলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রীতা রানী মজুমদারসহ অন্যান্য শিক্ষক সাইনবোর্ড পুনঃস্থাপনের চেষ্টা করলে ফরিদ বাহিনীর কমান্ডার ফরিদ, সায়েম, জহিরুল ইসলাম ও রাসেলসহ আরো কয়েজন সন্ত্রাসী তাদের বাধা দেয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়। পরদিন ১৭ জুনও শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে ঢুকতে না দেওয়ায় ভবনের নিচতলায় শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা করতে হয়।
এ ঘটনায় বিদ্যালয়টি দখলমুক্ত করা এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগের কাছে লিখিত প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে বলে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে।
ঘটনার দিন ধারণ করা এক ভিডিও বার্তায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রীতা রানী মজুমদার বলেন, বিদ্যালয়টি হাতিয়া উপজেলার ভৌগোলিক সীমানার মধ্যে অবস্থিত। বহিরাগতদের অনুপ্রবেশ ও হামলার কারণে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা শিক্ষা কার্যক্রম থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। তিনি জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করেন, অতীতেও এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। তাদের দাবি, হাতিয়া উপজেলার হরণী ইউনিয়নের সাবেক প্রশাসক মুশফিকুর রহমানের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগিতায় রামগতি সীমানার অনুপ্রবেশকারী সন্ত্রাসীরা অতীতেও এভাবে হামলা চালিয়েছে। তাদের ব্যক্তি সুবিধার জন্য এলাকার শান্তি বিনষ্ট করছে। মুশফিকের শ্বশুর বাড়ি রামগতি এলাকায়। ফলে এসব ঘটনায় তার শ্বশুরালয়ের আত্মীয়রাও জড়িত বলে স্থানীয়রা জানান। তবে এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসেল ইকবাল বলেন, ‘অনুপ্রবেশকারী ও হামলাকারীদের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। তবে বৃহস্পতিবার দুপুরের পর লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবিএম আশরাফ উদ্দিন (নিজান) সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিদ্যালয়ের সীমানা থেকে সরিয়ে নেন। বর্তমানে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।’
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Leave a Reply