
প্রতিবেদক: নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার চরজুবলী ইউনিয়নের হারিছ চৌধুরী বাজার এলাকায় প্রকাশ্যে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শামসুল হক মিলন ও তাঁর ভাই বাদশা মিয়াসহ অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে বাদশা মিয়ার একটি হাত ভেঙে গেছে এবং মাথায় গুরুতর আঘাত লেগেছে বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, গত ১২ জুলাই জমি বিক্রিকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে এ হামলার ঘটনা ঘটে। তাঁদের দাবি, বাদশা মিয়ার মা নুরজাহান বেগম জমি বিক্রি করবেন—এমন খবর পেয়ে প্রতিপক্ষের লোকজন মিজান, কামরুল, নাঈম ও জামাল উদ্দিন তাঁদের বাড়িতে গিয়ে নুরজাহান বেগম, আমেনা বেগম ও বিবি কুলসুমের ওপর হামলা চালায়।
পরবর্তীতে বিষয়টি জানতে পেরে বাদশা মিয়া হারিছ চৌধুরী বাজারে গিয়ে হেলাল বেপারীর দোকানে তালা লাগিয়ে দেন। পরে তালা খুলতে গেলে মিজান, কামরুল, নাঈম, জামাল উদ্দিন ও হেলাল বেপারীর নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি লোহার রড, লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাঁদের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।
হামলায় বাদশা মিয়া ও শামসুল হক মিলন গুরুতর আহত হন। এছাড়া জেসমিন আক্তার, আমেনা বেগম, নুরজাহান বেগম ও বিবি কুলসুম আহত হয়েছেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বাজারে শত শত মানুষ উপস্থিত থাকলেও হামলাকারীদের ভয়ে কেউ এগিয়ে আসেননি। পরে স্থানীয়রা আহতদের হাসপাতালে নেওয়ার উদ্যোগ নিলে পথে অ্যাম্বুলেন্সের গতিরোধ করা হয় এবং চালককে মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ ওঠে। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আহতদের উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত মিজান ও হেলাল বেপারীর সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁরা ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে চরজব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল হাসান বলেন, “ঘটনাটি জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে হয়েছে বলে জেনেছি। উভয় পক্ষের মধ্যে মারামারি হয়েছে। যাঁদের দোকানে তালা দেওয়া হয়েছিল, তাঁরাও একটি অভিযোগ দিয়েছেন। বাদশা মিয়ার পক্ষ থেকে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
Leave a Reply