
দীর্ঘ ২২ বছরেও নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় পৌরসভা গঠন না হওয়াকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ফল বলে দাবি করেছেন নোয়াখালী-৪ (সদর-সুবর্ণচর) আসনের সংসদ সদস্য মো. শাহজাহান।
সম্প্রতি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক ডিও পত্রে তিনি উল্লেখ করেন, ২০০৪ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া নোয়াখালী সদর উপজেলার দক্ষিণাংশ নিয়ে সুবর্ণচর উপজেলা গঠন করলেও দুই দশকের বেশি সময় পার হলেও সেখানে কোনো পৌরসভা প্রতিষ্ঠা করা হয়নি।
ডিও পত্রে এমপি মো. শাহজাহান জানান, সময়ের পরিবর্তিত চাহিদার সঙ্গে সুবর্ণচরের প্রশাসনিক ও বাণিজ্যিক গুরুত্ব ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। উপজেলা সদর ও আশপাশের এলাকায় বর্তমানে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ হাজার মানুষের বসবাস রয়েছে। এছাড়া সড়ক যোগাযোগ, বিদ্যুৎ, পানি সরবরাহ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র, সরকারি-বেসরকারি প্রায় ২০টি ব্যাংকসহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক অবকাঠামো গড়ে উঠেছে।
তিনি আরও জানান, উপকূলীয় এই অঞ্চলে পৌর কাঠামো না থাকায় ড্রেনেজ ব্যবস্থা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সড়ক রক্ষণাবেক্ষণসহ নাগরিক সেবা ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন, রাজস্ব সংগ্রহ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রেও প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে।
এ অবস্থায় উপজেলা সদর ও সংলগ্ন এলাকাকে অন্তর্ভুক্ত করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ‘সুবর্ণচর পৌরসভা’ গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানান তিনি।
এদিকে, এমপির ওই পত্রের পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় সরকার বিভাগের পৌর-২ শাখা গত ১৩ আগস্ট জেলা প্রশাসক, নোয়াখালীকে একটি চিঠি পাঠিয়েছে। চিঠিতে স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯ অনুযায়ী প্রস্তাবিত পৌরসভার জনসংখ্যা, জনঘনত্ব, আয়তন, রাজস্ব আয়, ভূমির ব্যবহার, তফসিল ও ডিজিটাল ম্যাপসহ প্রয়োজনীয় তথ্য এবং সুস্পষ্ট মতামত পাঠানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের আশা, প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে দীর্ঘদিনের দাবি বাস্তবায়নের মাধ্যমে সুবর্ণচর পৌরসভা গঠনের পথ সুগম হবে এবং নাগরিক সেবার মান আরও উন্নত হবে।
এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, সুবর্ণচর উপজেলা প্রতিষ্ঠার ২২ বছর পার হলেও আজও পৌরসভা গঠন না হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। রাজনৈতিক কারণে এ জনপদকে দীর্ঘদিন উন্নয়ন বঞ্চিত রাখা হয়েছে। জেলার অন্যান্য উপজেলায় পৌরসভা থাকলেও সুবর্ণচরের মানুষ এখনও সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত। আমরা মনে করি, এই বৈষম্যের অবসান ঘটিয়ে অবিলম্বে সুবর্ণচর পৌরসভা গঠনের উদ্যোগ নেয়া উচিত।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আকিব ওসমান জানান, স্থানীয় সরকার বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রস্তাবিত পৌরসভা গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাইয়ের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। আইন ও বিধি অনুযায়ী সব ধরনের তথ্য প্রস্তুত করে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। বিষয়টি সম্পূর্ণ সরকারি প্রক্রিয়ার অংশ এবং প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় গ্রহণ করবে।
Leave a Reply