
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) এক শিক্ষার্থী বিষধর সাপের দংশনের শিকার হয়েছেন। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বুধবার (৮ জুলাই) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের খালেদা জিয়া হলসংলগ্ন সড়কে টিউশন শেষে ফেরার পথে এ ঘটনা ঘটে। আহত আশরাফুল আলম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত এক চিকিৎসক জানান, রাতে সাপে কাটা অবস্থায় আশরাফুলকে হাসপাতালে আনা হলে তাকে এক ডোজ অ্যান্টি-ভেনম দেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য চমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, দংশনের পর আশরাফুলকে প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তবে সেখানে অ্যান্টি-ভেনমসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা না থাকায় তাকে দ্রুত হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখান থেকে চিকিৎসকদের পরামর্শে রাত প্রায় ২টার দিকে তাকে চমেক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) পাঠাগার ও ক্যাফেটেরিয়া বিষয়ক সম্পাদক মাসুম বিল্লাহ বলেন, টিউশন শেষে ফেরার পথে একটি বিষধর সাপ আশরাফুলকে দংশন করে। বর্তমানে তিনি চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী ও ভেনম রিসার্চ সেন্টার, বাংলাদেশের গবেষক রফিকুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অন্তত ছয় প্রজাতির বিষধর সাপ রয়েছে। এর মধ্যে সবুজ বোড়া, বড় কাল কেউটে, পদ্মগোখরা ও শঙ্খচূড়ের দংশন হলে রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে এবং অন্তত ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে।
সর্পদংশনের পর আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, ক্ষতস্থানে বাঁধন দেওয়া, কেটে বিষ বের করার চেষ্টা করা বা রোগীকে ঘুমাতে দেওয়া উচিত নয়। বিষক্রিয়া হলে সাধারণত বমি বমি ভাব, চোখের পাতা নেমে আসা, জড়ানো কণ্ঠে কথা বলা, ঘাড় হেলে পড়া ও শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
Leave a Reply