
প্রতিবেদক: নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার আমকি বাজার এলাকায় নোয়াখালী জেলা যুবদল নেতা মাহবুবুর রহমান জুয়েলের গাড়ির সঙ্গে ‘জননী পরিবহন’-এর একটি বাসের ধাক্কা লাগাকে কেন্দ্র করে বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়েছে। এর জেরে চাটখিল উপজেলার হালিমা দীঘির পাড়ে জননী পরিবহনের ৩২টি গাড়ি আটকে রাখা এবং পরিবহন সংশ্লিষ্টদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে।
রোববার (১২ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত দীর্ঘ সাড়ে ৪ ঘণ্টা গাড়িগুলো আটকে রাখায় সড়কের দুই পাশে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে চাটখিল থানা পুলিশের উপস্থিতিতে উভয়পক্ষের মধ্যে বিষয়টি মীমাংসা হলেও একটি গাড়ি আটকে রাখে এই নেতা।
জননী পরিবহনের জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মাসুদ আহমেদ অভিযোগ করে বলেন, আমাদের ৩২টি গাড়ি আটকে রাখা হয়েছিল। শুধু গাড়ি আটকে রাখাই নয়, এ সময় পরিবহনের মালিক এবং একজন ড্রাইভারসহ মোট তিনজন স্টাফকে মারধর করে আহত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে চাটখিল থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (সেকেন্ড অফিসার) শাহজাহান বলেন, রাত পৌনে ৯টার দিকে পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশ যাওয়ার পর উভয়পক্ষ বসে বিষয়টি নিজেদের মধ্যে মিটমাট (মীমাংসা) করে ফেলে।
পরিবহন সূত্র ও স্থানীয়দের মাধ্যমে জানা যায়,রোববার বিকেল ৫টার দিকে সোনাইমুড়ী থানার আমকি বাজারের নিকটবর্তী স্থানে জেলা যুবদলের সহ-কোষাধ্যক্ষ মাহবুবুর রহমান জুয়েলের গাড়ির সঙ্গে জননী পরিবহনের একটি বাসের ধাক্কা লাগে।
এ নিয়ে বাসের ড্রাইভার ও হেলপার ও স্থানীয় লাইনম্যানের সঙ্গে ওই যুবদল নেতার কথাকাটাকাটি ও বাকবিতণ্ডা হয়। এই ঘটনার জেরে জুয়েল তার অনুসারীদের দিয়ে বিকেল ৫টা থেকেই হালিমা দিঘীরপাড় এলাকায় জননী পরিবহনের অন্যান্য গাড়িগুলো আটকে দেওয়া শুরু করে।
এ বিষয়ে জেলা যুবদলের সহ-কোষাধ্যক্ষ মাহবুবুর রহমান জুয়েল বলেন, জননী বাসের সঙ্গে যেটা হয়েছে, সেটা ছিল সামান্য বিষয়। বর্তমান তা মীমাংসা হয়ে গেছে।
দীর্ঘ সময় নোয়াখালী-ঢাকা আঞ্চলিক মহাসড়কের এই অংশে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকায় সড়কের দুপাশে যানবাহনের শতাধিক গাড়ির দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। ঘটনার আকস্মিকতায় এবং দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থেকে নারী ও শিশুসহ সাধারণ যাত্রীরা চরম দুর্ভোগ পোহান। পরে রাত পৌনে ৯টার দিকে চাটখিল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালায়। পুলিশের মধ্যস্থতায় উভয়পক্ষ বিষয়টি মীমাংসা করার পর রাত সাড়ে ৯টার দিকে গাড়িগুলো ছেড়ে দেওয়া শুরু হয়। তবে পুলিশ ঘটনার মূল সূত্রপাত ঘটানো জননী পরিবহনের নির্দিষ্ট বাসটি আটকে রেখে বাকি গাড়িগুলো ছেড়ে দেয়। এরপর সড়কে পুনরায় যান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে।
Leave a Reply