
নোয়াখালীর সেনবাগে মিনি ট্রাকের বডির নিচে বিশেষ কায়দায় লুকিয়ে রাখা ৬২ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ট্রাকের হেলপার সৈয়দ নুর (৩৩) নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে চালক মোঃ শাহেদ (৩৫) পালিয়ে গেছে।
বৃহস্পতিবার রাতে সেনবাগ উপজেলার কবিলপুর ইউনিয়নের ফেনী-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের সেনবাগ রাস্তার মাথা এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।
পুলিশ জানায়, নোয়াখালী থেকে ফেনীগামী একটি নীল রঙের পোটন মিনি ট্রাককে থামার সংকেত দেয় সেনবাগ থানা পুলিশের একটি দল। এ সময় চালক ও হেলপার পালানোর চেষ্টা করলে হেলপার সৈয়দ নুরকে আটক করা হয়। চালক শাহেদ রাতের অন্ধকারে পালিয়ে যায়।
পরে আটক ব্যক্তির দেখানো মতে ট্রাকটির ডান পাশের বডির নিচে বিশেষ কায়দায় লুকানো ১৩টি স্কচটেপ মোড়ানো প্যাকেট থেকে ৬২ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা ইয়াবার ওজন ৬ কেজি, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ১ কোটি ৮৬ লাখ টাকা।
এ সময় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত ঢাকা মেট্রো-ড-১২-৭৫৮৪ নম্বরের মিনি ট্রাক ও আটক ব্যক্তির ব্যবহৃত একটি পুরোনো আইটেল স্মার্টফোন জব্দ করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক হেলপার জানায়, পলাতক চালক শাহেদ, গাড়ির মালিক মোঃ রবিউল আলম (৩২) এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জনের সহযোগিতায় কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে ইয়াবাগুলো সংগ্রহ করা হয়। পরে নোয়াখালীর চরজব্বর হয়ে নরসিংদী জেলায় বিক্রির উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল।
এ ঘটনায় আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মোঃ আরিফ হোসেন।
পুলিশ জানায়, জেলা পুলিশ সুপার এন এম নাসিরুদ্দিনের দিকনির্দেশনায় চাটখিল সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মনীষ দাশ, বেগমগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আ.ন.ম. ইমরান খান এবং সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ শাহজাহান কামালের তত্ত্বাবধানে পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোঃ হযরত আলী মিঞার নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
এ ঘটনায় আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে সেনবাগ থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার এবং মাদকের উৎস ও এর সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
Leave a Reply