
নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, চুরি-ডাকাতি প্রতিরোধ এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাতের বেলায় দোকানপাট বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, রাত ১২টার পর ফার্মেসি ও জরুরি ওষুধের দোকান ছাড়া উপজেলার সব ধরনের দোকানপাট, চা-স্টল ও রেস্তোরাঁ বন্ধ রাখতে হবে। একই সঙ্গে রাত ১২টার পর বিভিন্ন বাজার, সড়ক ও মোড়ে অপ্রয়োজনীয় আড্ডা, জটলা এবং ঘোরাঘুরি থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। কবিরহাট থানা-পুলিশ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
পুলিশ জানায়, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি রাতের আঁধারে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধ প্রতিরোধে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে গভীর রাতে বাজার ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে অপ্রয়োজনীয় মানুষের চলাচল ও জটলা কমিয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর নজরদারি বাড়ানো হবে।
জরুরি সেবায় থাকবে ছাড় জনস্বার্থ ও জরুরি চিকিৎসাসেবার কথা বিবেচনা করে ফার্মেসি ও জরুরি ওষুধের দোকান ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখা যাবে। তবে অন্যান্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে নির্ধারিত সময়ের পর বন্ধ রাখতে হবে।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী রাত ৮টার পর দোকানপাট বন্ধ রাখার বিষয়টিও ব্যবসায়ীদের স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় পরিস্থিতি ও আইনশৃঙ্খলা বিবেচনায় রাত ১২টার পর বিশেষভাবে দোকানপাট, চা-স্টল ও রেস্তোরাঁ বন্ধ রাখার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
মাদক ও কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে নজরদারি রাতের আড্ডা ও অপ্রয়োজনীয় জটলার আড়ালে মাদক সেবন, বেচাকেনা এবং কিশোর গ্যাংয়ের কার্যক্রম যাতে বিস্তার লাভ করতে না পারে, সে বিষয়েও পুলিশ বিশেষ নজরদারি চালাবে।
বিভিন্ন বাজার ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে রাতের বেলায় অহেতুক অবস্থান, দলবদ্ধ আড্ডা কিংবা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড দেখা গেলে পুলিশকে জানানোর জন্য স্থানীয়দের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
বেড়েছে নৈশকালীন টহল
নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে উপজেলাজুড়ে পুলিশের নৈশকালীন টহল বাড়ানো হয়েছে। থানা সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন রাতে চারটি টহল টিম উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দায়িত্ব পালন করছে। গুরুত্বপূর্ণ বাজার, সড়ক, মোড় ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে পুলিশের উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে।
এ ছাড়া চুরি-ডাকাতি, মাদক, কিশোর গ্যাংসহ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে বিশেষ অভিযানও জোরদার করা হয়েছে।
ব্যবসায়ীদের সতর্ক থাকার আহ্বান পুলিশের পক্ষ থেকে ব্যবসায়ীদের দোকান বন্ধ করার আগে নগদ টাকা ও মূল্যবান সামগ্রী নিরাপদ স্থানে রাখার পাশাপাশি দোকানের তালা ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কোনো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বা এলাকায় সন্দেহজনক ব্যক্তির আনাগোনা দেখা গেলে দ্রুত পুলিশকে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
থানা সূত্রে জানা যায়, নির্ধারিত সময়ের পর ফার্মেসি ছাড়া অন্য কোনো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খোলা রাখা যাবে না। কেউ নির্দেশনা অমান্য করে দোকান খোলা রাখলে কিংবা রাতের বেলায় অপ্রয়োজনীয় জটলা তৈরি করলে পরিস্থিতি অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় নাগরিক ও সচেতন ব্যবসায়ীরা পুলিশের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, নিয়মিতভাবে নৈশকালীন টহল ও নজরদারি অব্যাহত থাকলে চুরি-ডাকাতিসহ রাতের অপরাধ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে এবং ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ বাড়বে।
Leave a Reply