
প্রতিবেদক: ইতালির রাজধানী রোমে নিজ বাড়িতে প্রবাসী বাংলাদেশি পরিবারের তিন সদস্যকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় তাদের গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীতে চলছে শোকের মাতম। নিহতরা জেলার কোম্পানীগঞ্জের বাসিন্দা ছিলেন।
হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়তেই শনিবার সকাল থেকে কোম্পানীগঞ্জের চরকাঁকড়ার বাড়িতে ভিড় করেন প্রতিবেশী ও স্বজনরা। নিহতদের পরিবারের সদস্যদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে আশপাশ।
ইতালির স্থানীয় সময় শুক্রবার আনুমানিক রাত ৯টায় (বাংলাদেশ সময় রাত ২টা) অরেলিও এলাকার মনতিলিও সড়কের একটি অ্যাপার্টমেন্টে খুন হন কামাল হোসেন, তার স্ত্রী মমতাজ বেগম ও দম্পতির ছয় বছর বয়সী মেয়ে আরিশা। এ ঘটনায় আহত হন তাদের ১৮ বছর বয়সী ছেলে অয়ন।
স্বজনরা জানান, কামাল হোসেন প্রায় ১৫ বছর ধরে ইতালিতে বসবাস করছেন। প্রায় দুই বছর আগে কামাল হোসেন তার স্ত্রী ও সন্তানদের ইতালিতে নিয়ে যান।
নিহত কামাল হোসেনের বাবা মোহাম্মদ সিরাজ অভিযোগ, এটি একটি সম্পূর্ণ পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। সবশেষ গত সাত মাস আগে কামাল হোসেন যখন দুই মাসের ছুটিতে পরিবারসহ বাংলাদেশে এসেছিলেন, তখন তাদেরকে একটি ‘ও’ (অজ্ঞাতনামা) চিঠি দিয়ে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। সে সময় বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনকে জানানো হলেও কোনো সুরাহা মেলেনি।
নিহতের পরিবারের শঙ্কা, ইতালির রোমে বসবাসরত কিছু বাংলাদেশি প্রবাসীর সঙ্গে পূর্ব-বিরোধের জের ধরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।
এদিকে একমাত্র উপার্জনক্ষম ছেলে ও তার পরিবারকে হারিয়ে নির্বাক হয়ে পড়েছেন কামালের বৃদ্ধ বাবা-মা ও পাঁচ বোন। নিহতদের স্বজন এবং স্থানীয় প্রতিবেশীদের দাবি, বাংলাদেশ সরকার যেন দ্রুত সময়ের মধ্যে সরকারি প্রক্রিয়ায় মরদেহগুলো দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করে। একই সঙ্গে ইতালি সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানিয়েছেন তারা।
হত্যাকাণ্ডের পর ইতালির রোম পুলিশ ঘটনাস্থলটি চারপাশ থেকে ঘেরাও করে রেখেছে এবং বাসা থেকে বেশ কিছু আলামত সংগ্রহ করে জোর তদন্ত শুরু করেছে। নিহত তিনজনের মরদেহ বর্তমানে রোমের একটি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
Leave a Reply